“আমার পথ' প্রবন্ধে দাসত্ব বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

Updated: 8 months ago
  • পরনির্ভরতাকে
  • পরাধীনতাকে
  • পরচর্চাকে
  • পরনিন্দাকে
3.3k
ব্যাখ্যাঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধটি মূলত আত্মোপলব্ধি, আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং নির্ভীক আত্মপ্রকাশের উপর জোর দেয়। এই প্রবন্ধে নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, সত্যের সাধনা এবং সকল প্রকার দাসত্ব থেকে মুক্তির ডাক দিয়েছেন।

প্রবন্ধে 'দাসত্ব' বলতে শুধুমাত্র শারীরিক পরাধীনতা নয়, বরং মানসিক, আত্মিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক পরাধীনতাকেও বোঝানো হয়েছে। নজরুল মনে করেন, মানুষ যখন নিজের সত্তাকে অস্বীকার করে, মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে, ভীরুতা বা অন্য কারো মুখাপেক্ষী হয়ে জীবনযাপন করে, তখন সে এক ধরনের দাসত্বে আবদ্ধ থাকে। এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে 'আমি' এর আত্মপ্রতিষ্ঠা, নির্ভীকতা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকাই নজরুলের কাম্য।

আলোচ্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

        
  • ১. পরনির্ভরতাকে: পরনির্ভরতা (অন্যের উপর নির্ভরশীলতা) অবশ্যই এক ধরনের দাসত্বের কারণ। নজরুল আত্মনির্ভরতার কথা বলেছেন, তাই পরনির্ভরতা তার দৃষ্টিতে দাসত্বের একটি রূপ।
  •     
  • ২. পরাধীনতাকে: পরাধীনতা (অন্যের অধীন থাকা, স্বাধীনতা না থাকা) হলো দাসত্বের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ এবং ব্যাপক অর্থ। প্রবন্ধের মূল সুরই হলো সকল প্রকার পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়া। রাজনৈতিক পরাধীনতা থেকে শুরু করে মনন ও চিন্তার পরাধীনতা সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। 'দাসত্ব' শব্দটি সরাসরি 'পরাধীনতা' এর সমার্থক।
  •     
  • ৩. পরচর্চাকে: পরচর্চা (অন্যের নিন্দা বা সমালোচনা) একটি নেতিবাচক অভ্যাস হলেও, এটি 'দাসত্ব' ধারণার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
  •     
  • ৪. পরনিন্দাকে: পরনিন্দা (অন্যের দোষ বলা) পরচর্চার মতোই, যা প্রবন্ধের 'দাসত্ব' ধারণার মূল বক্তব্যের বাইরে।

সুতরাং, 'আমার পথ' প্রবন্ধে 'দাসত্ব' বলতে সবচেয়ে যথার্থভাবে 'পরাধীনতাকে' বোঝানো হয়েছে। নজরুল চেয়েছেন মানুষ যেন সত্যকে পথ করে সকল প্রকার পরাধীনতা, ভয় ও মিথ্যার বেড়াজাল ভেঙে আপন পথে এগিয়ে চলে। 'পরনির্ভরতা' যদিও দাসত্বের একটি দিক, তবে 'পরাধীনতা' শব্দটি 'দাসত্ব'কে সামগ্রিকভাবে এবং গভীর অর্থে প্রকাশ করে, যা নজরুলের প্রবন্ধের মূল ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago


আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি— নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ আর কোনো পথই আমার বিপথ নয় । রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তাহলে বাইরের কোনো ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায়। অতএব যে মিথ্যাকে চেনে, সে মিছামিছি তাকে ভয়ও করে না। যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে। নিজকে চিনলে মানুষের মনে আপনা-আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে, সে আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কুর্নিশ করে না— অর্থাৎ কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না । এই যে, নিজকে চেনা, আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা, এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয় । এটা আত্মকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি । আর যদি এটাকে কেউ ভুল করে অহংকার বলে মনে করেন, তবু এটা মন্দের ভালো— অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয় । ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে । ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো ।
অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহংকার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন।
স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা। নিজকে চিনলে, নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বন, এই নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শেখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজি। কিন্তু আমরা তাঁর কথা বুঝলাম না, “আমি আছি” এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম “গান্ধীজি আছেন” । এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে । একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব। অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে? আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হব, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত, তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। আত্মকে চেনা নিজের সত্যকে বড় মনে করার দম্ভ— আর যাই হোক ভণ্ডামি নয়। এ-দম্ভ শির উঁচু করে, পুরুষ করে, মনে একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’-ভাব আনে । আর যাদের এই তথাকথিত দম্ভ আছে, শুধু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারবে।
যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু কেউ নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত । আমি কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনো দিনই করব না ।
ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কোনো ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেব। কিন্তু না বুঝেও নয়, ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্যে ভুলটাকে ধরে থাকব না। তাহলে আমার আগুন সেই দিনই নিভে যাবে। একমাত্র মিথ্যার জলই এই শিখাকে নিভাতে পারবে। তাছাড়া কেউ নিভাতে পারবে না ।
মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা আমার এ পথের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না । যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম ।

[সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত]

Related Question

View All
  • আত্মনির্ভরতা
  • অহংকারের পৌরুষ
  • সহজ স্বীকারোক্তি
  • রাজভয়
48
  • মানব ধর্ম
  • একজন পথপ্রদর্শক
  • সত্যের ঝান্ডা
  • আগুনের সম্মার্জনা
63
  • আত্মাকে চেনার ফলে
  • সত্যাবলম্বনের মাধ্যমে
  • আত্মসত্য উপলদ্ধির ফলে
  • আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে
85
  • রেইনকোট
  • নেকলেস
  • আমার পথ
  • বায়ান্নর দিনগুলো
62
  • অন্তরে মিথ্যা ভয় রেখে।
  • খুব বেশি বিনয় দেখিয়ে।
  • সত্যকে অস্বীকার করে।
  • না বুঝে বোঝার ভন্ডামি করে।
87
Updated: 5 months ago
  • রুদ্র-মঙ্গল
  • যাত্রাবদল
  • যুগ-বাণী
  • কুহেলিকা
76
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই